
পলাশ ফুল আমরা বাঙালিরা সবাই কম বেশী চিনি। কিন্তু চিনলে কী হবে। গতবছর ঠিক এই সময়ে এই পলাশ ফুল নিয়েই পড়েছিলাম মহা সমস্যায়।
মার্চের প্রথম সপ্তাহে বাইক নিয়ে ঘুরতে যাই কাঁকড়াঝোড়ের জঙ্গলে। শুকনো জঙ্গলের ভেতর এক জায়গায় কিছু পলাশ ফুল দেখে দাঁড়িয়ে গেছিলাম। ডাল আছে, অল্প কিছু ফুল আছে, কিন্তু গাছ নেই। অন্য সব গাছ আছে, কিন্তু পলাশ নেই। বেশী সময় দিতে পারিনি সেবার। কিন্তু মনের ভেতর খটকাটা রয়ে যায়।
তার দিন দশেক পরেই গেছিলাম মধ্য ভারতের বান্ধবগড় অরণ্যে। বাঘ দেখবো কী। মাথায় ঢুকলো অন্য ভূত। দেখি লম্বা লম্বা কচি পাতাযুক্ত শাল গাছ থেকে ঝুলছে কালো ডাল আর থোকায় থোকায় পলাশের ফুল। পলাশ গাছ আমরা জানি একটি বৃক্ষ। তার কালো কাণ্ড এবং ডালপালা আমাদের চেনা। কিন্তু কাণ্ডহীন পলাশ গাছ আবার কী রকম।
জঙ্গলের গাইড কে ভাঙা হিন্দিতে জিজ্ঞাস করে কিছু অদ্ভুত উত্তর পাওয়া গেলো। একটি উত্তর হলো যে শাল গাছ বেশী শক্তিশালী হয়ে পলাশ গাছটাকে মেরে দিচ্ছে। দ্বিতীয় উত্তর আরো মজার। ছোটবেলায় পলাশ গাছ নাকি ঠিক করে নেয় সে গাছ হবে নাকি লতিয়ে উঠবে। এই ক্ষেত্রে গাছ না হয়ে লতিয়ে উঠেছে। গাছের ক্ষেত্রে এহেন ক্যারিয়ার চয়েস এর কথা আগে শুনিনি। বলাই বাহুল্য, দুটোর কোনো উত্তরেই আমি খুশি হইনি। বাইনোকুলার দিয়ে ভালো করে দেখলাম। অন্য ফুল নয় তো? ছবিও তুললাম। নাহ। অবিকল পলাশ।
সেইবার ভ্রমণ শেষ হলো জব্বলপুর স্টেশনে। হাতে অনেক সময়। রিটায়ারিং রুমে বসে আবার ভাবছি। এবার ল্যাপটপ খুলে কিছু পড়াশুনো করা গেলো। অবশেষে ধাঁধার সমাধান হলো। জানলাম যে আমাদের চেনা পলাশের আরেকটি জাতভাই আছে, যেটি বৃক্ষ নয়, liana বা woody climber। বাংলায় তার নাম, লতা পলাশ। একটি সম্পূর্ণ আলাদা species যার বৈজ্ঞানিক নাম Butea superba। আর আমাদের চেনা পলাশের বৈজ্ঞানিক নাম Butea monosperma। অথচ দুজনের ফুল এক। মধ্য ভারতের জঙ্গলে অন্য গাছকে জড়িয়ে উঠতে দেখা যায় এই লতা পলাশকে। আমাদের পূর্বদিকে হয়তো লতা পলাশ একটু কম দেখা যায় বা দেখাই যায় না।
আনন্দের রেশটুকু থাকতে থাকতে স্টেশনে বসেই ফোন করলাম আমাদের সুস্মিতাদি-কে (সুস্মিতা বাসু)। যাঁরা চেনেন তারা জানবেন যে তিনি পুরো গাছের এনসাইক্লোপিডিয়া। ওনাকে আমার লতা পলাশের ডিসকভারির গল্পটা বলতে উনিও বেশ মজা পেলেন। ওনার থেকেও আরো অনেক কিছু তথ্য পেলাম। বেশ একটা তৃপ্তি হয়েছিলো সেবার। একটা ধাঁধা নিজে থেকে সমাধান করতে পারলে যেই আনন্দ অনেকটা সেরকম।
সৌম্য কুণ্ড
৪ ঠা মার্চ ২০২৪।
#flora
#floraofindia
#forests
#plants


Leave a Reply